পোড়া ঢেউটিন ও আমার বাংলাদেশ-২
(চলমান পাতা-২) কাঁচামালের দোকান বন্ধুরা আমি আগেই বলেছি আমার বাবা মা ভাই বোন এরা সবাই সেই যুদ্ধের সময় সৈয়দপুরেই থাকতেন। এদিকে তাঁদের কোনো খোঁজ খবর পাওয়া যাচ্ছিলো না তাই আমরা সবাই উদ্বিগ্ন ছিলাম। এরই মধ্যে খবর আসলো সৈয়দপুরে বিহারিরা বাংগালীদের যেখানে পাচ্ছে সেখানেই কঁচুকাটা করছে। আমরা আরো চিন্তিত হয়ে পড়লাম। বিশেষ করে আমি মায়ের জন্যে কান্না করতে লাগলাম। নানী ভাতের হাঁড়িতে কাঁচা দুর্বাঘাস দিয়ে তা আবার একটু পরে তাঁজাই বের করে আমাকে সান্তনা দিতেন এই বলে যে, "এই দেখ গরম ভাতেই দুর্বাঘাস তেমনি তরতাঁজা আছে। তাঁর মানে তোর বাবা মা সবাই জীবিত আছে।" আমি সান্তনা পেতাম এই আর কি। একদিন সত্যি সত্যিই নানীর কথা ফলে গেলো। হঠাৎ করেই এক বিকেলে আমার বাবা মা আমার আর তিন ভাই এক বোন সিরাজগঞ্জের বাসায় এসে হাজির। বাড়িতে যেনো আনন্দের বন্যা বয়ে গেলো সবার মাঝে। আমাকে কাছে পেয়ে মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিলেন। আমিও কান্না করে দিয়েছি সবাইকে কাছে পেয়ে। রাতে বাবার কাছে জানতে পারলাম আমাদের সৈয়দপুরের বাড়ি ঘর সব পুড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানি সেনারা। সেখান থেকে কোনোমতে জীবন নিয়ে ত...